XtGem Forum catalog
¤
হত্যাকারী

বইঃ হত্যাকারী

লেখকঃ মোঃ জাবেদ ভুঁইয়া

||এক||
হঠাৎ‍ করে কান্ডটা হয়ে গেল। কিন্তু কে করলো এই অস্বাভাবিক কান্ডটা। তাওআবার পুলিশ সুরক্ষিত অঞ্চলের ভিতরেই। কতখন ঘাটাঘাটি করলাম আমি নিজে নিজেই।যোগ, বিয়োগ, গুন করে হিসাবটা মেলাতে চেষ্টা করলাম। নাহ্ কাজ হচ্ছেনা। অযথা চুল টেনে টেনে মাথায় মধ্যে একটা ভোভো যন্ত্রনার তৈরী করেছি। এরচেয়ে ভাল শীলুর কাছে গেলে। এক বন্ধুর কাছে শুনলাম সেতো এখন প্রফেশনাল গোয়েন্দার কাজকরছে। তার কাছে গেলে একটা না একটা ফল দাড়বেই। যেটা বেরকরবার জন্য আমি মাথায় যন্ত্রণার সৃষ্টি করেছি সেটা হয়তো শীলু কয়েক মূহুর্তেই বলে দিতে পারবে। হ্যা ...হ্যা ..যদি সমাধান বের করতে চাই তবে অবশ্যই শীলুর খোঁজে বের হতে হবে।কিন্ত শীলু এখন কোথায় আছে কে জানে ।ওকে বের করতেই তো হাফ বেরিয়ে যাবে।আবার না বের করেও উপায় নেই । কথাগুলো মনে মনে ভাবলাম আমি ।একটা দীর্ঘনিঃশ্বাসবেড়িয়ে এল বুক চিড়ে ।
||দুই||
দু তিন স্থানে কুকুরের মতো ঘোরাঘুরি করলাম কিন্তু শীলু তো বটে ওর টিকিটির সন্ধানও পেলাম না। আসলেই মানুষ খোঁজা বড়দায়। দুপুর রোদে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ঘেমে একাকার হয়ে ফুটপাত থেকে একটা আইসক্রিম কিনে নিলাম। খেতে গিয়ে বুঝতে পারলাম আশপাশের মানুষজন কেমন দৃষ্টিতে যেন আমার দিকে তাকিয়ে আছে। থাক তাকিয়ে আমার খাওয়া আমি খাব। দ্বিতীয় বারের মতো আইসক্রিমটা মুখে পুরতে যাব এমন সময় পিছন থেক কারগলার আওয়াজ যেন ভেসে এল। খেয়াল করে দেখলাম আমাকেই তো ডাকছে। কিন্তু কে ডাকবে এই শহরে। আমার জানামতে এই শহরে তো আমার পরিচিত কেউ নেই।ভাবনাগুলো শেষ করার আগেই আবার ডাক ভেসে এল, এই অভি ....অভি ...।
||তিন||
পিছন ফিরে তাকিয়ে অবাক হয়ে গেলাম । ¤কিরে সকাল তুই ? কিছুটা কৌতুহল ,বিস্ময় আর একরাশ প্রশ্নবোধকতার মিশেলে প্রশ্ন করলাম ওকে । ¤কি আর করা। সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফিরে সিলেটেই আছি । কিছুটা বিস্ময় কমালো ও। কিন্তু সম্পূর্ণ কৌতুহলটা মোটেও কমল না আমার। নেহাত কৌতুহলের বশে আবার প্রশ্ন করলাম, সিলেটে মানে? এখানে কি করছিস? সিঙ্গাপুর থেকে আসলি কবে? আমার এই প্রশ্ন গুলোর একটারও উত্তর দিলনা ও। শুধু বলল, তোর পুরোনো স্বাভাবটা এখনো গেছেনা দেখছি ।
||চার||
¤ তুই কি শিলুর কোন খোঁজ জানিস ? হঠাত্‍ করেই প্রশ্ন করলাম সকাল কে । ¤একি রে আজ সূর্য কোন দিকে উঠল ? কথার মধ্যে শ্লেষের ভাব করে বলল ও । ¤মানে ? কপাল কুচকিয়ে প্রশ্ন করলাম আমি । সকাল কোন উত্তর দিলনা ।শুধু মৃদু মৃদু হাসতে লাগল । আমি কিছুখন উত্তরের অপেক্ষা করলাম তারপর আবার প্রশ্নের পূনারাবৃত্তী করলাম । সকাল কিছুখন চুপ করে থেকেহাসি হাসি ভাবটা দূর করল ।তারপর মুখটা একটু গম্ভীর করে বলল ,শুনেছি ওএখন বিখ্যাত গোয়েন্দা ।কিন্তু কোথায় থাকে তা জানিনা ।তবে শরিফের কাছে গেলে পাওয়া যাবে । ¤কোন শরীফ ঐয়ে পটলা হাবু বলে খেপাতাম ও নাকি ? সকালের ঠোটের কোনে আবার মৃদু হাসির ঝলকটা চলে এল । ¤হ্যা ।সেদিন গিয়েছিলাম ।গিয়ে দেখি ব্যাটা ইয়া মোটা হয়ে গেছে । ¤কিন্তু পটলাটা শিলুর খবর জানে কি করে ? আমি কিছুটা বোকার মত প্রশ্ন করলাম । দেখলাম সকালের কপালটা দলে গেছে ।মুখটা কিছুটা বিকৃত ।মানে ও চিন্তায় পড়েছে । ¤কিরে ?আমি হেসে সকালের চিন্তার আর আমার প্রশ্নের জবাব কতটুকু এগিয়েছে জানার চেষ্টা করলাম । কিন্তু বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে দেখলাম আমার কোন কথায়সকালের কানে ঢুকছেনা ।ও চিন্তার সাগরে মনে হয় হাবুডুবু খাচ্ছে ।কিন্ত কি ভাবছে ও ?
||পাঁচ||
রহিম সাহেব এই মাত্র খাওয়া দাওয়া সেড়ে বেরোলেন ।একটা রিক্সা ডেকে বিরুক্ত মুখে রিক্সায় উঠলেন ।ওনার মুখে বিরুক্ত আর চিন্তার স্পষ্ট ছাপ । হঠাত্‍ করেই একটা বিরাট ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েছেন ওনি ।রাতদিন জলের মতো টাকা ডালছেন তবু ঝামেলার জাল থেকে বেরোতে পারছেন ।মনে হচ্ছে এবার ওনি ফেসেযাবেন ।কে জানে আবার বেচেও যেতে পারেন । মনে মনে বারবার একটা কথায়ঘুরে ফিরে আসছে তাঁর । "শেষ পর্যন্ত এই মুসিবত থেকে বেরোতে পারব তো ?" এমন সময় পাশ দিয়ে একটা রিক্সা গেল ।বিরুক্ত মুখে ওদিকে তাকালেন ওনি । রিক্সায় অভি আর সকাল । মুখে ফরফর করে কি যেন বললেন ওনি ।তবে ওনার মুখের ভাব দেখে এটুকু বুঝা গেল যে ওনি আর যাই বলে থাকেন এদের কোন গুনকির্তন করেন নি । ¤ও ছার পুলিশ স্টেশন আইয়া পড়ছি । বিকট স্বরে চেচিয়ে বলল রিক্সাওয়ালা ।

।।ছয়।।

ছাদে দাড়িয়ে ছিল রিমি ।ওরচোখে অশ্রু ।কেমন করে কি হয়ে গেল কিছুই বুঝা গেলনা।কেমন একটা রহস্য যেন সবকিছুতে ।ভাবতেই বড় কষ্ট হয় তার ।তবু ভাববে সে ।অভি নিশ্চয় কিছু একটাকরবে ।খুনিকে এত সহজে ছাড়বেনা সে ।পিতৃহত্যার প্রতিশোধ অবশ্যই নেবে সে ।যতই বাঁধা বিপত্তি আসুক না কেন ।লড়াই করে যেতে রিমি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ।রেলিংয়ে হাত রেখে আকাশের শত সহস্য তারকামেলার দিকে তাকিয়ে এইসব ভাবছিল রিমি ।খুনির পিশাচিয় মুখটা যেন বারবার ফুটে উঠছিল ওর হৃদয়পটে ।যতবার খুনির চেহাড়া ভাসছিল ততবারই দাঁতে দাঁতে চেপে রেলিংটাকে শক্ত করে ধরছিল রিমি ।এমন সময় পিছনথেকে কার গলার আওয়াজ যেন ভেসে এল , রিমি .... ।
||সাত||
রিমি আকাশের দিকে তাকিয়েথেকেই বলল ,আস ।আমি সকালকে নিয়ে মৃদু পায়ে রেলিঙে গিয়ে দাড়ালাম ।রিমির দিকে তাকানো যাচ্ছেনা ।একদম শুকিয়ে গেছে ও ।চোখের কোনে কালো কালো কালি পড়েছে ।মুখের উজ্জলতা কোথায় যেন হারিয়ে গেছে ।রিমির বাঁধভাঙ্গা উচ্ছাসের স্থানে একরাশ চিন্তা ভর করে রয়েছে । ¤কোন খোঁজ পেলে শিলুর ? তেমনি ভাবে ঠায় আকাশের দিকে তাকিয়েই বলল রিমি । ¤নাহ্ ।মেঝের দিকে তাকিয়ে বললাম আমি । চোখ উপরে তুলে দেখলাম রিমি আমার দিকে তাকিয়ে আছে একদৃষ্টে ।তারপর আবার মুখ ঘুরিয়ে পূর্বের স্থানে নিয়ে গেল । ওর মুখে একটা হেরে যাওয়ারহাসি খুক করে বেরিয়ে এল ।হাসিটাতে ওর দুঃখটাকে আরও একটু বেশি করে উপলদ্ধি করলাম । ¤পারবেন তুমি মোটেও পারবেনা ।বিড়বিড় করে বলতে লাগল রিমি ।ওর চোখেরকোনায় অশ্রুকনাগুলো চাঁদের আলোয় মুক্তোর মত জ্বলছিল

||আট||

¤কে বলেছে আমরা পারবনা?আমরা অবশ্যই পারব ।এতখনে প্রথম কথা বলল সকাল ।ওর কন্ঠে স্পষ্ট দৃঢ়তা প্রকাশ পেল ।রিমি তখনো আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে ।মাঝে মাঝে দাঁতে দাঁত চেপে রেলিঙএ শক্ত করে চেপে ধরছে ।ও কি পাগলহয়ে যাচ্ছে ?একটা প্রশ্ন বাঁজখাই ভাবে মনে মনে ছায়া ফেলে গেল । না না ।এসব কি ভাবছি আমি?পরক্ষনেই চিন্তাটাকে দূরে ঠেলে দিলাম । সকাল তখনো দৃঢ়তার সাথে বলে যাচ্ছে ,আমরা যদি এক হয়ে লড়ি তবে খুব শীঘ্রই খুনিকে ধরতে পারি ।আর আমিআর অভি কাল যাচ্ছি শিলুর খোঁজে ।তুমি কোন চিন্তা করোনা । একশ্বাসে কথাগুলো বলে প্রথমে আমার দিকে তাকিয়ে তারপর রিমির দিকে তাকাল ও।আমিও ওর চোখ অনুসরন করলাম । রিমি তখনো আগের মতোই দাড়িয়ে আছে ।আমি ডাকলাম,রিমি ? একটা দীর্ঘশ্বাসের শব্দ শুনা গেল ।তারপর ভেসে এল ,কি । ¤এখন গিয়ে খাওয়া দাওয়া কর ।মনে তো হয়নি দু একদিনে কিছু খেয়েছ কিনা । কথার কোন জবাব পাওয়া গেলনা ।আমি কিছুখন চুপ করে রইলাম ।তারপর বললাম,তোমার এই বাড়িতে থাকা মোটেও নিরাপদ নয় ।তোমার বাবার শত্রু তোমারও শত্রু ।তারচেয়ে তুমি আমাদের বাড়ি চলে এস ।মার সাথে থাকবে । রিমি শান্ত মেয়ের মত চোখ মুছে ঘরে চলে গেল ।আমি আরসকাল হতভম্ব হয়ে দাড়িয়ে রইলাম ।

||নয়||

চারদিকে শিয়ালের ডাক ।মস্তবড় বাড়িটার মধ্যে আজকে মাত্র একটি মেয়ে ।রিমি ।ঘুমাবার ব্যর্থ চেষ্টা করল সে কিছুখন ।নাব্যর্থ হয়ে চোখ মেলেই শুয়ে রইল ।এমন সময় নিচে একটা খুট করে শব্দ হল ।চমকে উঠল রিমি ।নিচে কে হতে পারে ।বিছানার পাশে রাখা দা টা হাতে নিয়ে রাখল ও ।তারপর একদৃষ্টে দরজার দিকে তাকিয়ে রইল । সামনে দেখা গেল তিনটা ছায়া মানুষ পাইপ বেয়ে ছাদে উঠে যাচ্ছে ।মনে হচ্ছে ওরা রিমির রুমের দিকেই এগোচ্ছে ।
||দশ||
কি করবে ভেবে পাচ্ছেনা রিমি ।দশ টা মানুষের সাথেকি পের উঠবে সে ?তারচেয়ে কি পালানো ভাল ?বারবার প্রশ্নগুলো ঘুরপাকা খেল মনে ।হঠাত্‍ই মনে হল মৃত্যুমুখে পতিত বাবার কথাগুলো ।"হ্যা আমাকে পালাতেই হবে ।পিতৃহত্যারপ্রতিশোধ নেওয়ার জন্য আমাকে বেচে থাকতে হবে"সহসা মনে মনে কথাগুলো ভাবল রিমি ।সামনের দিকে তাকাল ।ছায়া গুলো ক্রমে ক্রমে এগিয়ে আসছে । দশটা ছায়া আর রিমির দুরত্ব এখন মাত্র একটি রুমের ব্যাবধান । রিমি দা টা হাতে নিয়ে ওর রুমের অপর দরজা দিয়ে রেলিংয়ে চলে গেল ।এখানে দিয়েই নামতে হবে ।মনে মনেভাবল রিমি ।ঘর থেকে শাড়িটা রেলিংয়ে বেঁধে ওটা দিয়ে নামতে লাগলে ।নিচে কয়েকটা গাড়ি ।লাফ দিয়ে নেমে গেল রিমি ।সস্তির একটা দীর্ঘশ্বাসছাড়ল ও ।পিছনে ঘুরে দৌড়তেযাবে এমন সময় মাথায় একটা আঘাত অনুভব করল রিমি ।ধীরে ধীরে গড়িয়ে পড়ল মাটিতে ।পিছন থেকে একটা অট্টহাসি বেরিয়ে এল রাতে সদ্য চাঁদ ডুবা অন্ধকারকে মাড়িয়ে
||এগারো ||
রিমিদের বাড়ি এসে হতভম্ব হয়ে গেলাম আমি আর সকাল ।প্রত্যেকটা রুম তন্যতন্য করে খুঁজলাম ।কোথাও নেই । সকাল রেলিংয়ে দাড়িয়ে কি যেন একটা মনযোগ দিয়ে দেখছে ।এগিয়ে গেলাম ওদিকে ।দেখলাম একটা নীল শাড়ী বাঁধা ।মনে হচ্ছে এটা ঝুলিয়ে কেও নেমেছে ।শাড়ি হয়ে চোখটা নিচের দিকে ঘুরালাম ।যা দেখলাম তাতে আত্‍কে উঠলাম আমি ।:সকাল নিচে দেখ কি ! প্রায় চেচিয়েই বললাম আমি । :মনে হচ্ছে রক্ত ।স্বাভাবিক ভাবেই বলল সকাল । :চল নিচে গিয়ে দেখি ।আবারকথা বলল ও । নিচে নেমে কয়েক ফোটা ছোপ ছোপ রক্ত আর এক জুতা পরা কয়েকটা পায়ের ছাপ ছাড়া আরকিছুই দেখতে পেলাম না । সকাল স্থানটার একটা ছবি তুলে নিল ।
||বার||
রিমিকেও ওরা ধরে নিয়ে গেছে ।তাহলে কি করে বের করব পৈশাচিক সেই হত্যাকারীকে ?যে রাতে আঁধারে পশুর রূপ ধারন করে। শিলুকে খোঁজতে এসে গাড়িতে বসে কথাগুলো ভাবছিলাম আমি ।বারবার শিলুর কথা মনে হচ্চে ।ও যদি থাকত তবে অনেক আগেই হত্যাকারী বেরিয়ে আসত ।"শিলু তুই কোথায় বন্ধু!" ঠোক জোড়ায় মৃদু কম্পন জাগিয়ে বললাম আমি । :ওইতো আর একটু গেলেই শরিফের বাড়ি ।হুইল ঘুড়াতে ঘুড়াতে বলল সকাল ।হে খোদা ওখানে গেলে যেন শিলুর একটা খোঁজ পেয়ে যাই।বিড় বিড় করে বলতে লাগলামআমি ।
||তের||
¤ওর সাথে আমার কক্সবাজারে দেখা হয়েছিল ।তারপর আর দেখা হয়নাই ।তবে ও বলেছিল কলকাতা যাবে । চিন্তাক্লিষ্ট মুখ করে বলল শরিফ । ওর কথায় কিছুটা হতাশ হলেওএকটা আশার আলো পেলাম ।কলকাতায় নিশ্চয় থাকতে পারে ।কিন্ত অত বড় শহরে ওকে খুঁজে বের করাও তো অনেক কঠিন কাজ ।মনে মনে কথাগুলো ভাবলাম আমি । ¤আচ্ছা ওর মোবাইল নাম্বার আছে তোর কাছে ? শরিফ কে হঠাত্‍ করেই বলল সকাল । আমিও প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে শরিফের মুখের দিকে তাকালাম ।দেখলাম শরিফের মুখ উজ্জল হয়ে উঠছে । ¤হ্যা ..হ্যা ..আছে ।প্রায়চেচানোর মত করেই বলল শরিফ। অনেকখন খুঁজার পর একটা নোটবুকের ভেতর থেকে নাম্বারটা পাওয়া গেল । সকাল দ্রুত হাতে মোবাইলে নাম্বারগুলো ডায়াল করতে লাগল ।সবাই উন্মুখ হয়ে ওরদিকে তাকিয়ে রইলাম ।
।।চৌদ্দ।।
জ্ঞান ফিরতেই ঝাপসা ঝাপসা চোখে চারদিক তাকাল রিমি ।একটা বদ্ধ বিকট অন্ধকারে ভরা ঘরে নিজেকে আবিষ্কার করল । এ কোথায় সে ?আতকে উঠল রিমি ।একটুও আলো নেই ।।অন্ধকারের কালোময়তায় যেন শ্বাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে তার ।উঠে বসার চেষ্টা করল ও ।কিন্তু ব্যাথার প্রকটে তাও করে উঠা গেলনা ।শুয়ে শুয়ে চারদিকে তাকাল রিমি ।অন্ধকারটা এতখনে সয়ে এসেছে ।চারদিক অন্ধকার ফুড়ে বাঁকা বাঁকা পাইপের মত কতগুলি দন্ড দেখা গেল ।তাকে কারা এখানে ধরে নিয়েএল ?একটা প্রশ্নের সূক্ষ কাঁটা ওর সর্বাঙ্গে বিঁধে বিঁধে ক্ষত বিক্ষত করে গেল । ভয়ে কিছুটা ঝিমিয়েও গেল রিমি ।হাতটা ভর করে অনেক কষ্টে উঠে বসল ।মাথাটা এখনো দপদপ করছে ব্যাথায় ।একহাতে মেঝেতে ভর দিয়ে অপর হাতটা মাথার পিছনের চুলে বিলিয়ে দিল ।হাতটা রক্তে ভিজে গেল রিমির । আমার শুয়ে গেল ও ।মনে হচ্ছে আবার জ্ঞান হারাচ্ছে ।সামনের অন্ধকারটা আসতে আসতে আরও ঘন থেকে ঘনতর হয়ে মিলিয়ে গেল । মাটির নিচের তৈরী বিরাট বপু ঘরটায় দ্বিতীয় বারের মত জ্ঞান হারাল রিমি । ।।পনেরো ।। পুলিশ ঘন ঘন রিমিদের বিরাট বাড়িটায় তল্লাশী চালাচ্ছে ।কিন্তু দুইটি মানুষের হত্যাকারীটাকে ধরার মত কোন ক্লু খুঁজে পেলনা তারা ।এই নিয়ে মেজাজটা রাতদিন তিরিক্ষিহয়ে থাকে এই জেলার সবচেয়েসফল সাব ইন্সপেক্টর নাইমের ।বারবার ঠোট কামরে ভাবতে লাগল কে করতেপারে খুনটা ।আচ্ছা অভি নয়তো ?কথাটা মনে হওয়া মাত্রই একটা হাসির ঝলক খেলে গেল নাঈমের মুখ জোড়ে। এই নিয়ে অবশ্যই একটা তল্লাশী করতে হবে তাঁর । ক্যাপটা মাথায় পড়ে লাঠিটা হাতে নিয়ে মটরসাইকেলে চড়ে থানা থেকে বেরিয়ে গেলেন তিনি ।
||ষোল||
কিলার
শ্বাস রুদ্ধ করে মোবাইল টা কানে ধরলাম ।নিশ্চুপ একটা পরিবেশ সৃষ্টি হলনা ।সবাই উন্মুখ হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে । মোবাইল থেকেও কোন শব্দ আসছে ।"এতখন লাগে " বিরুক্ত হয়ে মনে মনে মোবাইল অপরেটরদের একটা গালি দিলাম ।কিছুখন পর রিং হওয়া শুরু হল ।কিন্ত উঠাচ্ছেনা কেন ফোন ।অস্থিরতায় ঘেমে ঘেম যাচ্ছিলাম সবাই ।শরিফটাতো রীতিমত কাপছেই।হঠাত্‍ করেই ওপাশ থেকে কে যেন বাঁজখাই গলায় বলল,হ্যালো ।আমার মুখ দিয়ে কোন কথা বেরোল না ।এত শিলুর গলা না !কে এ?আমাকে চুপ থাকতে দেখে সকাল আমার কাছ থেকে মোবাইল নিয়ে কথা বলতে শুরু করল ।ওর মুখটা কেমন যেন ক্রমশ উজ্জল হয়ে যাচ্ছে ।
।।সতেরো ।।
অভির একমাত্র বেচে থাকা আত্নীয় ওর কাকা বাড়িতে পুলিশ দেখে হতভম্ব হয়ে গেলেন ।একরাশ আতঙ্কে নিয়ে লাঠিতে ভর করে কাপতেকাপতে ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন তিনি ।সাব ইন্সপেক্টর নাঈমের সামনের চেয়ারটায় বসলেন ওনি ।ভয়ে ভয়ে নাঈমের দিকেতাকালেন ।আশ্চর্য এত হাসছে ।এলোয় বা কেন ? আবার হাসছেইবা কেন ? কিছুই ভেবে পেলেন না বৃদ্ধ সলিম আলী ।: অভি কোথায় ? হঠাত্‍ করেই যেন প্রশ্ন করল নাঈম ।ভাবনা থেকে চমকে উঠলেন অভির চাচা ।কিন্তু কোন উত্তর খুঁজে পেলেন না তিনি ।অভিযে কোথায় তা তিনি নিজেও জানেন না । :অভি কোথায় ?হঠাত্‍ করেই যেন পাল্টে গেল নাঈমের আচরণ ।মুখ জুড়ে যেখানে ছিল হাসির ঝলক ।সেখানে এখন রাগের তীব্রতা ঝরে পড়ছে ।সিগ্ধ ছোয়া চোখ গুলি থেকেও যেন আগুন ঠিকরে পড়ছে । সলিম আলীর অন্তরাত্না শুকিয়ে গেল ।কয়েকবার চেষ্টার পর চিকন গলায় বললেনঃ আমি জানি না । এলাকার সবচেয়ে সফল ইন্সপেক্টর নাঈম তখনো আগুন দৃষ্টিতে অভির চাচার দিকে তাকিয়ে আছেন ।
।।আঠার ।।
দ্বিতীয়বারের মত জ্ঞান ফিরল রিমির ।চারদিকে আগের মতোই অন্ধকার দেখতে পেল সে ।তবে উপরের দিক দিয়ে একটা ছোট্ট সুরঙ্গ যেন সৃষ্টি হয়েছে ।ওটা দিয়ে একটু একটু আলো মাটিরনিচের এই ঘরটা আলোকিত করানিষ্ফল প্রচারনা চালাচ্ছে ।হঠাত্‍ ই ভূত দেখার মত চমকে উঠল রিমি ।সুরঙ্গের আলোটা যেন আলো আধারীর খেলা খেলছে ।কিছুখন পরই আলো আধারীয় খেলা অন্ধকারে হাতে সমর্পন করে তিনটা ছায়া মূর্তির আবির্ভাব হল ।ভয়ে প্রায় জমে গেল রিমি ।তীব্র ব্যাথার যন্ত্রণা এড়িয়ে উঠে বসল ও ।কোন রকমে একটাপাইপের আড়ালে নিজেকে লুকাবার চেষ্টা করল ।ছায়াগুলি তখনো সুরঙ্গেরমাথায় দাড়িয়ে আছে ।রিমি শ্বাসরুদ্ধ করে পাইপের আরো ভিতরে চলে গেল ।
||উনিশ||
ফোনটা রেখে উজ্জল মুখ করে আমাদের দিকে তাকাল সকাল ।হাতদুটো কনুই থেকে বেকিয়ে উপরে তুলতে তুলতে"চিকস" ! করে বাচ্চাদের মত একটা অঙ্গভঙ্গি করল ও ।আমরা প্রচন্ড কৌতুহলের সাগরে নিমজ্জিত হয়ে ওর দিকে তাকালাম । ¤কিরে কি খবর ?শিলুর খবর পেয়েছিস ?উত্‍সুক হয়ে প্রশ্ন করলাম । সকাল কিছুটা শান্ত হয়ে ধীরে সুস্থে বসল ।তারপর সবার তাকিয়ে আবার পূর্বের মত অঙ্গভঙ্গিটা করে নিল । ¤কিরে বলছিস কেন ? আমার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় আবার প্রশ্ন করলাম ওকে । ¤পেয়েছি । সকালে কথা শুনে মূহুর্তে মধ্যেই সকল উদ্বিগ্ন চলে গেল ।তবে তা অস্থায়ীভাবে ।কিছুখন পরই আবার ফিরে এল। ¤ওর সাথে তোর কথা হয়েছে ?উন্মুখ হয়ে প্রশ্ন করলাম আমি । প্রশ্নটায় কেমন যেন ঝিমিয়ে গেল সকাল ।তারপর আমতা আমতা করে বললঃ ওর সাথে তো কথা হয়নি ।কিন্ত ওর চামচা কি জানি ও করিম ওর সাথে কথা হয়েছে ।ওরা কক্সবাজারেই আছে । কেন জানি সকালের মুখ দেখেএই ঘোর সঙ্কটেও আমার হাসিপেল । ।।বিশ।। ¤ঠিক আছে আমি উঠি । ক্যাপটা হাতে নিতে নিতে বললেন ইন্সপেক্টর নাঈম ।ওর মুখে শ্লেষের হাসি ।উঠে চলে যেতে যেতে আবার ফিরে এসে সলিম আলীর সামনেদাড়ালেন ওনি ।সামনে রাখা কাঠের টেবিলটায় হাতের লাঠিটা দিয়ে মৃদু একটা শব্দ করলেন । তারপর লাঠিটা নাকের কাছে নিয়ে বললেনঃ আবার আসব রশিনিয়ে ।তখন কিন্তু কোনপ্রকার ভদ্রতা করা হবেনা আপনার সাথে । হন হন করে মোটরসাইকেলে চড়ে বসল নাঈম ।আবার একটা শ্লেষের হাসি হাসলেন তিনি । তারপর চালিয়ে চলে গেলেন ।ওদিকে তাকালেন না বৃদ্ধ সলিম আলী ।লজ্জায় ,ঘৃনায়,কূল ভাঙ্গা অভিমানে নিচের দিকে তাকিয়ে নিরমে অশ্রু বিশর্জন করতে থাকেন ওনি ।পাড়াপ্রতিবেশিরা কড়া কড়া কথা বলতে বলতে যার যার বাড়ির অভিমুখে রওয়ানা দিলেন । ।।একুশ।। ছায়া মূর্তিগুলো ক্রমেই রিমির দিকে এগিয়ে আসছে ।রিমিকে না দেখে ওরা কিছুটা হতভম্ব হয়ে গেল ওরা ।হাতের টর্চ লাইট্টা ঘন ঘন এদিক ওদিক করতে শুরু করল মূর্তিগুলো ।এতে ভয় পেয়ে রিমি পাইপেরআর একটু ভিতরে চলে গেল ।একটা আলো রিমির সামনে পাইপটায় প্রতিফলিত হচ্ছে।ভয়ে ভয়ে রিমি ক্রমেই শিটিয়ে যেতে শুরু করল ।ধরা পরে যাবনা তো ? বার প্রশ্নের নির্মম খোঁচাটাওকে পৈশাচিক ভাবে বিদ্ধ করতে শুরু করল ।
||বাইশ||
চারদিকে ঘন গাছপালা ঘেরারাস্তায় মধ্য দিয়ে টয়োটা গাড়িটা নিয়ে এগিয়ে চললাম আমরা ।আমি ,সকাল ।শরিফেরওইচ্ছা ছিল আসার কিন্তু বেচারা বউয়ের ইচ্ছার কাছে ফেসে গেছে । ড্রাইবিং সিটে বসে এদিক তাকালাম ।খুব সুন্দর রাস্তাটা ।স্থানটার নাম কি হবে ?কয়েকটবার চেষ্টা করলাম মনে করতে ।না কিছুতেই মনে করা গেলনা ।একবার ভাবলাম সকাল কে বলব কিন্তু ড্রাইবিংয়ে ওর প্রকট মনযোগ দেখে আর কিছু বলার সাহস পেলাম না ।জানালা দিয়ে বাইরের দিকে আবার তাকালাম ।দূরে একটা পাহাড় একেবারে যেন আকাশ ছোয়ে আছে ।ওটা দেখেইরিমির কথা মনে হল ।রিমি তুমি কোথায় ? ফিসফিস করে বললাম আমি ।মনের অজান্তেই দু ফোঁটা অশ্রু চোখ থেকে পড় গেল ।ব্যাপারটা সকালের চোখ এড়াল না ।গাড়িতে সহসা ব্রেক চেপে ধরল । ¤ কি হয়েছেরে তোর ? কিছুটা শোক ,সহানুভুতি তার সাথে একটুকরো ঝাঝালতা মিশিয়ে প্রশ্ন করল সকাল । আমি ওর প্রশ্নের কোন উত্তর খুঁজে পেলাম না ।চোখ মুছে আবার পাহাড়্টা দেখার চেষ্টা করলাম ।আশ্চর্য হয়ে গেলাম ।সাদা মেঘগুলো সড়ে যাওয়াতে আকাশটা এখন পাহাড় থেকে আলাদা ।যেমন আমি আলাদা রিমির থেকে ।একটা চাপা দুঃখ বারবার বুক চিরে বেরিয়ে আসতে চাইছে ।হাজার চেষ্টা করেও ওটাকে আটকানো যাচ্ছেনা ।
||তেইশ||
লাইটের আলো পাইপের মুখে পড়তেই আর একটু ভিতরে যাবার জন্য যেই পাটা নিচের দিকে সরাল অমনি উপরে শিকটা থেকে হাতটা ফসকে গেল ওর ।সর সর করে নেমে গেল পাইপটার শেষ মাথায় একরাশ আবর্জনার মধ্যে ।পাইপের গায়ে মাথা লেগে মাথাটা বোধহয় ফেটেই গেছে রিমি ।একদিকে মাথায় তীব্র ব্যাথা আর একদিকে কড়া দূর্ঘন্ধ ।মাথায় দু হাত রেখে আবর্জনার উপরেই বসে পড়ল রিমি ।উপর থেকে একটা লাইটের আলো এসে পড়ল ওর চোখ বরাবর ।তীব্র আলোরজ্বলকানিতে জ্ঞান হারিয়েলুটিয়ে পড়ল রিমি ।
||চব্বিশ||
অবশেষে শিলুর দেখা মিলল ।আমরা মানে সকাল আর আমি এখন বসে আছি শিলুর মুখোমুখি ।শিলুকে সব বলা হয়েছে ।ও এখন চিন্তাক্লিষ্ট মুখে হাত দুটো জোড় করে সামনের দুটোআঙুল মুখের উপর ধরে বসে আছে ।পুরো রুমটা একদম নিশ্চুপ ।প্রতিটা শ্বাস প্রশ্বাসের শব্দ আয়ত্ত্বে আসছে ।নিঃশব্দতা ভাঙ্গলো শিলুই ।
¤ খুনটা করার পিছনে তোদের কারও সন্দেহ হয় ?
আমি আর সকাল দুজনে দুজনেরদিকে একবার মুখ ঘুরিয়ে বোকার মত তাকালাম ।
শিলু মনে বুঝে গেছে আমরা কি জন্য মুখ চাওয়া চাওয়ি করছি ।
¤ মানে জাস্ট সন্দেহ ।আমি তো আর তোদের হত্যাকারীকে বের করার কথা বলছি না ?আমি বলছি সন্দেহের কথা ।জাস্ট সন্দেহ ।
আমরা আবারো বোকার মত মুখ চাওয়া চাওয়ি করে মাথা ডানে বায়ে কয়েকবার নাড়াচাড়া করলাম ।যার অর্থ "না" ।
||পঁচিশ||
চোখ মেলে তাকাতেই একটা তীব্র আলোর ঝলকানি লাগল রিমির চোখে ।তারপরেই আবার সব অন্ধকার ।উঠে বসতে চেষ্টা করে ও ।কিন্তু পারেনা কিংবা ইচ্ছা হয়না ।আশ্চর্য হয়ে চারদিকে ঘুরে ফিরে তাকায় রিম ।এ কোথায় সে ?সেতো একটা আবর্জনার গর্তের মধ্যে পড়ে গিয়েছিল ।কিন্তু এই নরম চাদর বিছানো বিছানা চারদিকে কারুকাজ খচিত পুরোনো আমলের ঘরে ও আসল কি করে?ভয়ে চোটে ওর তীব্র পানি তৃষ্ণা পায় ।হ্যা অইতো ছোট টেবিল উপরে জগ ,গ্লাসদেখা যাচ্ছে ।কোনরকমে হেচরে হেচরে টেবিলটার কাছাকাছি যায় রিমি ।গ্লাসে পানি ভরতিই আছে ।হাতে গ্লাসটা নিয়ে যেই মুখে পুরতে যাবে ঠিক এমন সময় পিছন থেকে কে যেন ওর মাথায় আঘাত করল ।খসখসে একটা শুকনো চিত্‍কার বেরিয়ে এল রিমির কন্ঠ ফুরে ।হাত থেকে গ্লাসটা পড়ে কয়েকবার টুংটাং শব্দ করে নিশ্চুপ হয়ে গেল ।একবারে নিশ্চুপ ।
||ছাব্বিশ||
শিলুর কালো গোয়েন্দা ছাদখোলা গাড়িটায় চড়ে বেরিয়ে পড়লাম আমি ,শিলু আর সকাল গোয়েন্দা অভিযানে ।ড্রাইভিং করছে সকাল ।আমি ওর পাশে বসা ।পিছনেরসিটে কাঁচখোলা জানালায় জ্বলন্ত সিগেরেট সহ হাতটা রেখে আছে শিলু ।কক্সবাজারের তীব্র শো..শো বাতাসে খুব দ্রুত পুরে যাচ্ছে সিগেরেটটা ।কিন্তু ওদিকে কোন লক্ষ নেই ওর ।অনহাতটা মাথায় পিছনে দিয়ে কপাল কুচকে কিযেন ভাবছে ।শিলুকে চিন্তার সাগরে ভাসতে দেখে আমার ভিতরটা আবার হো..হো করে উঠল ।সত্যিই কি আবার ফিরে পাব রিমিকে ?
খুঁজে বের করতে পারব কি ঐনির্মম হত্যাকারীকে ?
ভাবনার অতলে তলিয়ে গেলাম আমিও ।গাড়িটা এগিয়ে চলল সমুদ্রের পাড় দিয়ে ধীর ধীরে ,বাতাস কেটে কেটে ।
||সাতাশ||
জ্ঞান ফিরতেই তৃষ্ণাটা আরও একটি গাঢ়ও করে পেল রিমির ।মাটি থেকে উঠতেই লক্ষ করল ও আসলে আগের স্থানে নেই ।চারদিকে একটু ভাল করে তাকিয়েই বুঝতে পারলে ও এখন শুয়ে আছে মুক্ত আকাশের নিচে ।মাটি থেকে উঠার চেষ্টা করল রিম কিন্তু ব্যার্থ হল ।কিছুখন পর অনুভব শক্তি ফিরে এলে ও বুঝতে পারল ওর মাথায় ,হাতে ,আরও বহুস্থানে তীব্র যন্ত্রণা ।হাতের কব্জিটাসামনে এনেই আত্‍কে উঠল ও ।একটা গুলি হাতের রেডিও আলনার ভিতরে গুরত্বর ভাবে ঢুকে আছে ।
ব্যাথায় ককিয়ে উঠল ও ।হালছেড়ে কিছুখন মরার মতো শুয়ে রইর রিমি ।তারপর দপ করে জ্বলে উঠল ওর চোখ দুটো ।হাতটা পিছনের দিকে ভর করে প্রবল ব্যাথা পাওয়া সত্ত্বেও উঠে দাড়াল ।কিন্তু চলতে পারলনা একপাও ।মাথা ঘুরিয়ে পড়ে গেল মাটিতে ।আবার জ্ঞান হারাল রিমি ।
আটাশ
লাঠিটা অভির চাচা সলিম আলির গলায় দু হাতে চাপ দিয়ে ধরলেন ইন্সপেক্টর নাঈম ।বৃদ্ধ বয়সের হাড়হিড়ে শরির শক্তি দিয়ে হাজার চেষ্টা করেও লাঠিটা নামাতে পারলেন অভির চাচা ।ব্যার্থ হয়ে তীব্র ব্যাথায় আর্তনাদ করে উঠলেন ওনি ।
¤আরে চাচা বলে দেন ? নাহলে .....
নাইমেয় পিছনে ফাস্ট এইড নিয়ে দাড়ানো কনস্টেবলটা সহসা দরদী মাখা কন্ঠে বলেউঠল ।
¤কি চাচা বলবেন নাকি ....
কনস্টেবলটার সুরে মেলাল নাইম ।লাঠিটা নামিয়ে আনল গলা থেকে ।মুখে আস্তে আস্তে বললঃ শালা বুড়ো কোথাকার ।
¤চাচা বলে দেন .... আবার অনুনয় করল কনস্টেবলটা ।
কিন্তু কোন কথা বললেন না বৃদ্ধ সলিম আলী ।শুধু একবার গলগল করে মুখ দিয়ে রক্ত ফেললেন ।সাথে একটা দীর্ঘশ্বাসও ছিল ।
||উনত্রিশ||
জ্ঞান ফেরার পর বহকষ্টে রাস্তায় এসে দাড়াল রিমি ।ঝাপসা চোখে এদিকে ওদিকে তাকাল ।নাহ্ কেউ নেই !কেউনেই ! দপ করে মাটিতে বসে পড়ল রিমি ।চোখহতে দু ফোটাময়লা চোখের জল গড়িয়ে পড়ল শুকনো মাটিতে ।ঠিক তখনি একটা গাড়ির শব্দ শুনা গেল।একটু ভয় আর একটু আশা নিয়ে চোখ ফেলল রাস্তায় ।গাড়িটা ক্রমেই এগিয়ে আসছে ।আরে একি ! অভি!গাড়িতে যে অভি ! ত্রিশ মোটকু ঝন্ডাটা চেয়ারে বসে গালে হাত দিয়ে কি যেনভাবছিলেন ।আর তাঁর অন্ধকার কালো রাজ্যের রাজপ্রাসাদে প্রজাবৃন্দরা অস্ত্র নিয়ে বীরদর্পে নিজেদের মধ্যে আলোচনায় লিপ্ত । ঘরটার উত্তর-পুর্ব কোণে যে বড় পাইপটা ।তার নিচে বসে আলোচনায় লিপ্ত চারজন্য অন্ধকার রাজ্যেরপ্রজা ।নীল সার্ট পড়া চেংড়া ছোরাটা বলল ,বসের খেলা ,মনে হয় আল্লা ছাড়া আর কেউই বুঝেনা । আরেকজন বললঃ আরে রিমিকে যখন মারবেনা বলল তখনই আমিবুঝেছিলাম ওনি কি করবেন । পাইপের নিচ থেকে এবার একটা দরদি কন্ঠ ফুরে এলঃ না মারলে কি হবে ।এর কি ভদ্র সমাজে ঠাই হবে ? এই যখন প্রখর আলোচনা চলছিল ঠিক তখনই মাথার ক্যাপ আর লাঠিটা বগলে চেপে ঘরে প্রবেশ করলেন ইন্সপেক্টর নাঈম ।তার চোখে মুখে একরাশ চিন্তার ছাপ ।
||পরিশেষ||
ইন্সপেক্টর নাঈম প্রায় ডুকরে কেঁদেই উঠলেনঃ বস..সব শেষ । বস তার ভাবনা থেকে ফিরে এলেন তারপর তার বিরাট কপালটা যথাসম্ভব দলা করে প্রশ্ন করলেনঃ কি হয়েছেরে ...? উত্তরে কাঁদতে কাঁদতে প্রায় দেড়ঘন্টা ধরে বসে বিরুক্ত ধরিয়ে ইন্সপেক্টর নাঈম যা বলল তাহলঃ অভি ,শিলু ,সকাল রিমিকে নিয়ে ফিরে এসেছে ।কিন্তু ব্যাপারটা এটা না ।রিম আর অভি বিয়ে করেছে ।এটাও ব্যাপার না ।ব্যাপার হল সবাই মিলে পুলিশের উপরতলায় কম্প্লেইন করতে গেছে । ইন্সপেক্টর নাঈমের কথা শেষ হবার আগেই বাইরে থেকেমাইকে পুলিশের কন্ঠ ভেসে এল ।আর সেইসাথে প্রচন্ড গোলাগুলির শব্দ ।
||সমাপ্ত||